ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও করনীয়

;
  • প্রকাশিত: ২ মে ২০২২, ৬:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ বছর আগে

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিনে ঈদের ময়দানে উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায় করা ঈবাদত। এই দিনটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। এ দিনটিতে বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদেরকে নেয়ামাত ও অনুগ্রহ দ্বারা বারবার ধন্য করেন।

ঈদুল ফিতর
ঈদুল ফিতর (عيد الفطر) এর ঈদ শব্দটি ‘আওদ’ শব্দমূল থেকে উদ্ভূত। এর আভিধানিক অর্থ হল ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা, বার বার আসা। আর ফিতর শব্দের অর্থ হলো, ফাটল, ভেঙ্গে ফেলা, বিদীর্ণ করা। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়ালের চাঁদ দেখার সাথে সাথে রোজা ভেঙ্গে ফেলা তথা রোজা রাখা ছেড়ে দেয়া হয় বলে এ দিনটির নাম ঈদুল ফিতর।

ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও করনীয়

ঈদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: “আর যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে পার এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্যে তোমরা আল্লাহর মমত্ব-বড়ত্ব প্রকাশ কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞ হও।” (বাকারা-১৮৫)

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. ইরশাদ করেন, ‘ঈদুল ফিতরের দিন যখন আসে তখন আল্লাহ তা’আলা রোযাদাদের পক্ষে গর্ব করে ফেরেশতাদেরকে বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ তোমরাই বলো রোযাদারেদের রোযার বিনিময়ে আজকের এই দিন কি প্রতিদান দেয়া যেতে পারে? সেই সমস্ত রোযাদার যারা তাদের দায়িত্ব পুরোপুরী আদায় করেছে, তখন ফেরেশতারা আল্লাহকে বলেন, হে দয়াময় আল্লাহ উপযুক্ত উত্তম প্রতিদান তাদের দান করুন । কারণ তারা দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা করেছেন, প্রাপ্য পারিশ্রমিক তাদেরকে দান করুন।

তখন আল্লাহ তা’আলা রোযাদারদেরকে বলতে থাকেন, ‘হে আমার বান্দা তোমরা যারা যথাযথভাবে রোযা পালন করেছ, তারাবীহর নামাজ পড়েছ, তোমরা তাড়াতাড়ি ঈদগাহে মাঠে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য যাও এবং তোমরা তোমাদের প্রতিদান গ্রহণ করো । ঈদের নমাজের শেষে আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন, হে আমার প্রিয় বান্দারা আমি আজকের এ দিনে তোমাদের সকল পাপগুলোকে পূর্ণের দ্বারা পরিবর্তন করে দিলাম । অতএব তোমরা নিস্পাপ হয়ে বাড়িতে ফিরে যাও’। (বাইহাকী ও মিশকাত)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: এদিনটিতে তোমরা রোজা রেখো না। এদিন তোমাদের জন্য আনন্দ-উৎসবের দিন। খাওয়া, পান করা আর পরিবার-পরিজনদের সাথে আনন্দ-উৎসব করার দিন। আল্লাহকে স্মরণ করার দিন।(মুসনাদ আহমাদ, ইবনু হিববান)

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, “ঈদের আনন্দ শুধু তাদের জন্য যারা রমযানের রোযা তারাবিহর নামাজসহ আল্লাহ তা’আলার যাবতীয় বিধি-বিধান গুরুত্ব সহকারে আদায় করেছে । আর যারা রমযানের রোযা ও তারাবীহ আদায় করেনি তাদের জন্য ঈদের আনন্দ নেই, বরং তাদের জন্য ঈদ তথা আনন্দ অগ্নিশিখা সমতুল্য।” (বুখারী)

ঈদের রাতের ফযীলত
হযরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (স.) বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর নিকট সাওয়াব প্রাপ্তির নিয়তে ইবাদত করবে তার হৃদয় সেদিনও জীবিত থাকবে যেদিন সকল হৃদয়ের মৃত্যু ঘটবে। (ইবন মাজাহ, হাদীস নম্বর ১৭৮২, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নম্বর-১৫৯)।

মহানবী সা. আরো ইরশাদ করেন ‘যে ব্যক্তি দু’ঈদের রাতে পুণ্যের প্রত্যাশায় ইবাদত-বন্দেগী করে কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির জন্য রয়েছে মহা পুরুস্কার, অর্থাৎ কিয়ামতের দিন অন্যান্য লোকদের অন্তর মরে যাবে, কিন্তু কেবল সেই ব্যক্তির অন্তর জীবিত থাকবে, সেদিনও মরবে না’। আততারগীব

রাসূল সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পুণ্যময় ৫টি রাতে ইবাদত-বন্দেগী করে সেই ব্যক্তির জন্য সু-সংবাদ রয়েছে, আর সেই সুসংবাদটি হচ্ছে ‘জান্নাত’ এবং পুণ্যময় ৫টি রাত হলো ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শবে বরাত, জ্বিলহজ্জের রাত, আরাফাতের রাত । (বাইহাকী)

ঈদের নামাযের সময়সীমা

সূর্য আনুমানিক তিন গজ পরিমাণ উপরে উঠার পর অর্থাৎ সূর্যোদয়ের ২৩/২৪ মিনিট পর থেকে দ্বি-প্রহরের পূর্ব পর্যন্ত ঈদের নামাযের ওয়াক্ত। সূর্য তিন গজ পরিমাণ উপরে উঠা পর্যন্ত সময়টুকুকে তার উদয়কাল বলে গণ্য করা হয়। এ সময়ে কোন নামায পড়া জায়েয নেই। ঈদুল ফিতরের নামায অপেক্ষাকৃত বিলম্বে এবং ঈদুল আযহার নামায আগে আদায় করা উত্তম।

বৃষ্টির কারণে মসজিদে ঈদের নামায পড়া জায়েয কি না। হযরত আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার ঈদের দিনে বৃষ্টি হল, তখন রাসুল (স.) তাদেরকে নিয়ে মসজিদে ঈদের নামায পড়লেন। (আবু দাউদ-১১৬২)। এতে বুঝা যায়, বৃষ্টি বা অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে ঈদের নামায মসজিদে পড়া জায়েয।

নামাজের জন্য ঈদগাহের দিকে রওয়ানা হওয়ার আগে ৩টি, ৫টি এরকম বেজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নত। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, প্রিয়নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে বেজোড়সংখ্যক খেজুর খেতেন।(আদ-দুরূসুর রামাদানিয়াহ, পৃ. ১৮৫।)

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি