সব
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো আগামী ২৪ মে (মঙ্গলবার) ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইস স্থাপন অপারেশন’ শুরু হচ্ছে। কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে শনিবার (২১ মে) দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রমের ডিভাইস’ বিতরণ করা হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ অনুষ্ঠানে ওসমানী হাসপাতালের নাক-কান গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো ময়নুল হক।
ওসমানী হাসপাতালের নাক-কান গলা বিভাগের এমএস কোর্সের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. অরূপ রাউৎ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা.শিশির রঞ্জন চক্রবর্তী, সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো.আব্দুর রফিক। আবাসিক সার্জন ডা.এম.নূরুল ইসলাম এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রমের বৈঞ্জানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম সিওমেকহা-এর কর্মসূচি পরিচালক ডা.নূরুল হুদা নাঈম।
অনুষ্ঠানে ওসমানী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো ময়নুল হক বলেন, জন্মবধির শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু আমাদের সমাজের অংশ। তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের ডাক্তার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী ও ডিভাইস গ্রহীতা ও অভিভাবকদের যার যার অবস্থান থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম’ প্রথম ২০১১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয় এবং তা জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউট ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চালু আছে।
তবে বর্তমানে সিলেটে এ কার্যক্রম শুরু হওয়া সিলেটবাসীর জন্য অনেক বড় অর্জন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যেসব শিশুরা জন্মবধির তারা কানে না শুনতে পারার দরুণ কথাবলাও শিখতে পারে না এবং ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে পরবর্তীকালে নানা বঞ্চনা ও অসুবিধার সম্মুখীন হয়। কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট তাদের সে অন্ধকার দশা থেকে মুক্তি লাভের এক আলোকবর্তিকা।
‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইস স্থাপন অপারেশন শুরু উপলক্ষে ইতোমধ্যে নাক-কান-গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট অপারেশনের জন্য একটি পৃথক অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত করা হয়েছে। বিতরণকৃত প্রতিটি ডিভাইস-এর মূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচলক্ষ টাকা যা অপারেশনের মাধ্যমে তাদের কানে স্থাপন করা হবে।
তবে শুধু অপারেশনের উপর এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সফলতা নির্ভরশীল নয়। অপারেশন এর একটি অংশমাত্র। অপারেশনের উপযোগী সঠিক রোগী নির্বাচন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অডিও থেরাপি, স্পিচ থেরাপি, অডিওভার্বাল থেরাপি, রিহ্যাবিলিটেশন এবং আজীবন ফলোআপ করা ইত্যাদির উপর এর সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি