সব
তাহাজ্জুদ নামায: তাহাজ্জুদ শব্দের অর্থ রাত্রি জাগরণ। শরীয়তের পরিভাষায় রাত্রি দ্বি-প্রহরের পর যাবতীয় আরাম আয়েশ ও সুখময় নিদ্রা ত্যাগ করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে নামায আদায় করা হয় তাকে তাহাজ্জুদের নামায বলা হয়। এই নামায নফল বা সুন্নতে গায়ের মুআক্কাদাহ।
পবিত্র কোরআনের সুরা বনী ইসরাঈল এর ৭৯ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-“(হে নবী) রাত্রের কিছু অংশ থাকতে তুমি ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করিবে। অসম্ভব নহে যে, ইহার পরিবর্তে তােমার প্রভু কিয়ামতের দিন তােমাকে মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে পৌছাবেন।“ হ্যরত জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি রাসুলুল্লাহ (স.) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই রাতের ভিতর এমন একটি সময় আছে, যদি কোন মুসলমান ঐ সময়টি পান, আর তখন দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ হতে কোন কিছু প্রার্থনা করেন তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দেন, আর এ সময়টা প্রতি রাত্রেই আসে। (মুসলিম)
তাহাজ্জুদ নামাযের সময় ও রাকায়াত সংখ্যা: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (স.) বলেছেন- আমাদের রব আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক রাত্রে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, যখন রাত্রির শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে। এ সময় আল্লাহ তায়ালা বলতে থাকেন কে আছে যে আমাকে ডাকবে? আর আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে যে আমার নিকট কিছু চাইবে? আর আমি তাকে দান করব। কে আছে যে আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে? আর আমি তাকে ক্ষমা করব। (বুখারী, মুসলিম)।
কাজেই তাহাজ্জুদ নামাযের সময় হলাে রাত্রির দ্বি-প্রহরের পর হইতে ছুবহে ছাদিকের পূর্ব পর্যন্ত। তবে শেষ রাত্রে তাহাজ্জুদের নামায পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের নামায ২ থেকে ১২ রাকায়াত। রাসুল (স.) সাধারণ ৮ রাকায়াত পড়তেন বিধায় এটাকেই উত্তম বলা হয়েছে। সম্ভব হলে ৮ রাকায়াত নতুবা ৪ রাকাআত আর তাও না পারলে ২ রাকায়াত ও পড়া যায়। তাহাজ্জুদের নামায যে কোন সুরা দিয়ে পড়া যায় তবে কিরাত লম্বা হওয়া উত্তম।
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি