দেশে খাদ্যের সংকট তৈরি হবে না : খাদ্যমন্ত্রী

;
  • প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২২, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ বছর আগে

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেছেন, এবার পাহাড়ি ঢলে হাওরে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে সুনামগঞ্জে বোরো ধানের কিছু ক্ষতি হলেও  হাওরে আবাদের জমির পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। আশা করি যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তাতে খাদ্যের প্রবলেম হবে না। আমাদের মজুত রয়েছে। এ ছাড়া বোরোর মজুত বাবদ শক্তিশালী মজুত গড়ে উঠবে বলে আমরা মনে করি। আউশের আবাদও ভালোভাবে হবে। যেহেতু সুবৃষ্টি আছে। আউশ লাগানোর মতো পরিবেশ আছে। বাংলাদেশে খাদ্যের ঘাটতি হবে এমন চিন্তা করা ঠিক হবে না।

সিলেট সদরে খাদ্যগুদাম পরিদর্শনকালে রোববার (১৫ মে) দুপুর দেড়টার দিকে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ভারত গম রপ্তানি বেসরকারিভাবে বন্ধ করেছে। সরকারিভাবে রপ্তানি বন্ধ করেনি। প্রজ্ঞাপনে সেটি পরিষ্কার রয়েছে। অতএব এর জন্য খুব বেশি অসুবিধা হবে বলে মনে হয় না। আর তাদের উৎপাদিত গম তাদের বিক্রি করতেই হবে। আজকে হয়তো প্রজ্ঞাপর জারি হয়েছে। ১৫ দিন বা ১ মাস পর সেটি ফিরিয়েও নিতে পারে…। সুতরাং সেটি নিয়ে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে বলে মনে করি না।’

দেশ অনেকটাই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দাবি করে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, দেশে এক বছর ধরে কোনো চাল আমদানি করা হয়নি। উৎপাদিত ধান দিয়েই চালের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। গম আমদানি করতে হয়। গম বেসরকারিভাবে বেশি আমদানি হয়। সরকারিভাবে কম হয়। সরকারিভাবে যেটুকু গম আমদানি করা হয়, সেগুলো রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আনা হয়। ইতিমধ্যে ভারত থেকে তিন লাখ মেট্রিক টন নিয়ে আসা হয়েছে। বাকি যেটুকু চাহিদা তা নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী খাদ্যমন্ত্রী।

ভোজ্যতেলের দাম বাড়া প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোজ্যতেলের দামের সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়। সারা বিশ্বে চিন্তা করলে কিংবা ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। ভারতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ২১০ রুপি করে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে আমরা ভালো আছি। ভালো থাকা নয় আমাদের আরও ভালো থাকতে হবে।’

এবার সরকারিভাবে ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ২৭ টাকা। এ দামকে কম হিসেবে দেখছেন হাওরের কৃষকেরা। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ধানের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। ধানের দাম বাড়ানো হলে চালের দাম বাড়বে। কৃষকদের বিভিন্নভাবে প্রণোদনা এবং ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। সার, বিদ্যুতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। সব ভর্তুকির হিসাব করলে বীজ, সার নানাভাবে চিন্তা করলে ন্যায্য ও যৌক্তিক মূল্য দেওয়া হয়েছে। কৃষকেরা বাজারে যাতে ন্যায্যমূল্য পান কিংবা কোনো সিন্ডিকেট গড়ে উঠে যাতে মজুত করতে না পারে, সে জন্য ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

তেলের পাশাপাশি বাড়ছে পেঁয়াজের দামও। দাম বাড়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সাধন চন্দ্র বলেন, এখন পেঁয়াজ কৃষকেরা উৎপাদন করছেন। সেগুলো বাজারে আছে। এর মধ্যে বেশি আমদানি করা হলে কৃষকেরা পেঁয়াজ উৎপাদন ছেড়ে দেবেন কিংবা ছেড়ে দিয়েছেন। পেঁয়াজের দাম আর বেশি উঠবে না। কারণ, টিসিবির মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সিলেটে চাল সংরক্ষণের জন্য আধুনিক রাইস সাইলো স্থাপন করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। এ জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিলেটে খাদ্যগুদাম পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাজমানারা খানুম, সিলেট জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) মো. রায়হানুল কবীর, পরিচালক মো. জামাল হোসেন, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সিলেট মো. মাইন উদ্দিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নয়ন জ্যোতি চাকমা।

এর আগে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি একটি ফ্লাইটে রবিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। সেখান থেকে সিলেট সদর খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে সিলেট সার্কিট হাউসে কিছু সময় অবস্থান করে মন্ত্রী সুনামগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি