সব
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে বছর ঘুরে আবারো এসেছে পবিত্র মাহে রমজান। দেশের আকাশে গতকাল শনিবার পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ রোববার থেকে শুরু হয়েছে সিয়াম সাধনার মাস। সিলেটসহ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা গতরাতে তারাবিহ্-এর নামাজ আদায় করে শেষরাতে সেহরী খেয়ে আজ থেকে রোজা পালন করছেন। আগামী ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।
পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস রমজান উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
এর আগে গতকাল শনিবার বাদ-মাগরিব জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) আয়োজিত এ সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী চাঁদ দেখার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় ইসলামী বিধান অনুযায়ী সিলেটসহ সারাদেশে মুসল্লীরা গতকাল শনিবার বাদ-এশা তারাবিহ্ নামাজ পড়েন। গত ৩০ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পবিত্র রমজান মাসে দেশের সকল মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে খতম তারাবিহ্ পড়ানোর জন্য আহবান জানানো হয়েছে।
এদিকে, গত শুক্রবার সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি স্থানে রমজানের চাঁদ দেখা যায়। ফলে দেশটিতে গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে রোজা।
চান্দ্রবছর ও সৌরবছরের মধ্যে ১১ দিনের পার্থক্যের কারণে প্রতিবছর রমজান মাসের সূচনার তারিখ পাল্টে যায়। কবে চাঁদ দেখা যাবে, তার ওপর নির্ভর করে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়। গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, এ বছর প্রথমে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ায়। এরপর দেখা যায় সৌদি আরবে। সৌদির চাঁদ পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ-আল-খুদাইরি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পবিত্র রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। যে মাস মুসলমানদের শেখায় সংযম, ত্যাগ ও ইবাদতবন্দেগি। মুসলমানের জন্য পবিত্র মাহে রমজান বয়ে আনে রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের বার্তা। নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় রমজানের এক মাস ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এই মাসটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য বোনাসের মাস। কৃষক ফসল কাটার মৌসুমে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে যেমন আনন্দ পায়; তেমনি আনন্দ অনুভব করেন একজন প্রকৃত মুমিন রমজানে কৃচ্ছতা সাধন করে। দিনের উপবাস আর রাতের তারাবিহ্র নামাজ কষ্টকর হলেও এগুলো তাদের কাছে সুখকর মনে হয়। কারণ এ মাসের ইবাদত অন্য মাসের ইবাদত অপেক্ষা ৭০ গুণ বেশি সওয়াব এনে দেয়। ওমরাহ হয় হজতুল্য। নফল হয় ফরজের সমান। রমজানের প্রতি প্রহরের আছে বিশেষ বিশেষ মর্যাদা। আহার-পানীয়তে আছে প্রচুর সওয়াব। বান্দার ইফতারে যেমন দয়াময় আনন্দিত হন; তেমনি এক টুকরো খেজুর কিংবা পানি অপর রোজাদারের মুখে ধরতে পারলেও দেন পূর্ণ রোজার সওয়াব! দানেও মিলে অন্য মাস অপেক্ষা ৭০ গুণ বেশি পূণ্য!
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি