সব
রাশিয়ার মূলধারার গণমাধ্যমগুলো ইউক্রেন যুদ্ধের যে দৃশ্য উপস্থাপন করে, তা সে দেশের বাইরে থেকে দেখা বিষয়ের বিপরীত। শুরুর দিকে তারা এটিকে যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনাই করেনি। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে বিরল তথ্য উঠে আসার ঘটনাও ঘটেছে।
বিবিসি বলেছে, রাশিয়ার টেলিভিশনে এ ধরনের বক্তব্য আসলেই বিরল ঘটনা।
অনুষ্ঠানটি মূলত ৬০ মিনিটের। ইউক্রেনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চালানো ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’সহ ক্রেমলিন যে সব কিছু ঠিকমতো করছে, তা তুলে ধরেই আলোচনা চলে সেখানে। দিনে দুবার অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হয়।
ক্রেমলিন এখনো বোঝানোর চেষ্টা করছে, রাশিয়ার ‘অভিযান’ পরিকল্পনা অনুসারেই চলছে।
কিন্তু সোমবার স্থানীয় সময় রাতে অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন সামরিক বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মিখাইল খোদারেনক। ক্রেমলিনের বর্ণনার একেবারে বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি (রাশিয়ার জন্য) স্পষ্টতই খারাপ হবে। পশ্চিমের কাছ থেকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা পাচ্ছে ইউক্রেন এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী লাখ লাখ মানুষকে অস্ত্র দিতে পারে।
ইউক্রেনীয় সৈন্যদের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তাদের মাতৃভূমি রক্ষা করার আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি বিদ্যমান। যুদ্ধক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিজয় সেসব সৈন্যের উচ্চ মনোবল দ্বারা নির্ধারিত হয়, যারা মাতৃভূমির জন্য যুদ্ধ করতে প্রস্তুত- এমন ধারণা থেকে রক্ত ঝরায়।
তিনি আরো বলেছেন, (রাশিয়ার) সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা রয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে আছি। সারা বিশ্ব আমাদের বিরুদ্ধে, এমনকি আমরা তা স্বীকার করতে না চাইলেও। আমাদের এই সংকটের সমাধান করা দরকার।
তিনি আরো বলেছেন, আমাদের বিরুদ্ধে যখন ৪২টি দেশের জোট থাকে এবং আমাদের সম্পদ, সামরিক-রাজনৈতিক এবং সামরিক-প্রযুক্তি যখন সীমিত হয়, তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে মনে করা যায় না।
স্টুডিওতে ওই সময় থাকা অন্য অতিথিরা চুপ ছিলেন। এমনকি অনুষ্ঠানের হোস্ট ওলগা স্কাবিয়েভা ক্রেমলিনের হয়ে সচরাচর কথা বললেও ওই সময় অদ্ভুতভাবে আওয়াজ উঁচু করেননি।
সূত্র : বিবিসি।
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি