সব
তদন্তে র্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের (ইএসটি) মো. আল-আমিন, গণিত বিভাগের মো. সোহেল রানা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মো. বারিউল হক মুবিন। আজ শনিবার দুপুরে যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে রিজেন্ট বোর্ডের ৭৮তম বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বোর্ডের সদস্যদের অনেকে সশরীরে উপস্থিতির থাকার পাশাপাশি ভার্চুয়ালিও যুক্ত থাকেন।
জানানো হয়, গত ১৭ এপ্রিল ২০২২ তারিখে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের ৩২০ নম্বর কক্ষ হতে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. সাব্বির আলমকে ডেকে নিয়ে আজীবন বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। যার ফলে মো. সাব্বির আলম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। উল্লেখ্য, ওই কক্ষে উপস্থিত অন্য ১০-১৫ জন ছাত্র তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল বলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে। সাব্বির জ্ঞান হারানোর পর তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং ১ থেকে দেড় ঘণ্টা হাসপাতালে না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে ধরাধরি করে নিচে নামিয়ে যবিপ্রবির অ্যাম্বুলেন্সযোগে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ওই দিন রাতে মো. সাব্বির আলমকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও কিছু শারীরিক পরীক্ষা করানো হয় ও পরদিন সকালে (১৮ এপ্রিল ২০২২) তাঁকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হলে ফেরত আনা হয় এবং প্রশাসনের কাছে কোনোরূপ অভিযোগ না করার জন্য হুমকি প্রদান করা হয়।
সাব্বির আলমকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন, হুমকি প্রদান এবং আলামত লুকানোর চেষ্টার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় রিজেন্ট বোর্ড থেকে তাঁদের এই শাস্তি প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রিজেন্ট বোর্ডের সভায় র্যাগিংয়ের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি