সব
সিলেট নগরীর পূর্ব শাহী ঈদগাহস্থ সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ষাট বছরের পুরনো জমিকে পারিবারিক শ্মশান দাবি করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে একটি পক্ষ। যে জায়গাটিতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয় গত বছর। এ নিয়ে সিলেটে চলছে তোলপাড়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পূর্ব শাহী ঈদগাহের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ভেঙে সেখানে ১০০০ হাজার শয্যার ওসমানী হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ বিষয়ে গত বছরের মে মাসে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু চলতি বছরের ২৫ ফেব্রু
এ বিষয়ে ললিত মোহন নাথের উত্তরাধিকারী রতন লাল নাথ বেসরকারি একটি টেলিভিশনকে বলেন, ২ একর ৫৬ শতক জায়গার স্থাপিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সম্পূর্ণ জমি তাদের নামে। ম্যাপ এবং ফর্সায়ও তাদের নাম রয়েছে। হাসপাতালের নামে কোনো কাগজ নেই। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবরে গত বছরের জুন মাসে একটি লিখিত আবেদন করেছেন তারা।
তাদের এ দাবি মিথ্যা আখ্যায়িত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, এ জমির রেকর্ডপত্র সব কিছু সরকারি সম্পত্তি হিসেবে নথিবদ্ধ আছে। এখানে ১০০০ হাজার শয্যার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন করা হবে। এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ে খতিয়ানসমূহে এবং ১৯৫২ সালের ভূমি হুমুক দখল ক্ষমতাবলে ২০০০ সালের ২ নভেম্বর প্রকাশিত গেজেটে এই ভূমি সরকারের পক্ষে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের নামে রেকর্ডকৃত। তাই এ জমির মালিকানা অন্য কেউ দাবি করলে সেটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হবে।
উল্লেখ্য, সিলেট সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জায়গা দখলের পায়তারা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি। শনিবার (২৩ এপ্রিল) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবাগত নার্সিং কর্মকর্তাদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সেই চক্রকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের প্রতি নির্দেশনা দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় বলেন, সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহে দ্বিতীয় ওসমানী হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এজন্য ৬ মাস আগে ওইখানে জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু শুনতে পেরেছি- সেই সরকারি জায়গা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি দুষ্চক্র। আমি সিলেট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে বলছি- দ্রুত সেই চক্রকে চিহ্নিত করুন, যাতে বেআইনিভাবে কেউ এই সরকারি জায়গা দখল করতে না পারে এবং দ্রুত সেই জায়গা হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হোক।
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি