ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে ভোট দিয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শনিবার প্রথম যে ঘোষণা দিয়েছে, তাতে রাশিয়াসহ সব সদস্য অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। ইউক্রেনে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি যদিও বলছে ভিন্ন কথা।
নিরাপত্তা পরিষদে শান্তির আহ্বান সংবলিত প্রস্তাবটি উত্থাপন করে নরওয়ে ও মেক্সিকো।
এতে ইউক্রেনের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে এ বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষণা গৃহীত হয়। ইউক্রেন ইস্যুতে এই প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর এটাই এ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের প্রথম ঘোষণা।
যুদ্ধ অব্যাহত
এদিকে জাতিসংঘে ঐকমত্য হলেও যুদ্ধ চলছেই। শনিবার কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে ইউক্রেনের ঐতিহাসিক অবকাশ যাপন শহর ওডেসায়। তবে এ হামলায় হতাহত বা ক্ষতির ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অনলাইনে প্রকাশ হওয়া ছবিতে শহরটির আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
এদিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের বাইরে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ চলছে। তাদের দাবি, এর আগে বেদখল হয়ে যাওয়া পাঁচটি গ্রাম তারা ফের দখলে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ বলছে, ইউক্রেন হয়তো শিগগিরই রাশিয়ার তোপের মুখ থেকে খারকিভকে মুক্ত করতে সক্ষম হবে।
আজভস্তাল থেকে সব নারী, শিশু ও প্রবীণ উদ্ধার
ইউক্রেনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক শনিবার জানিয়েছেন মারিওপোলের আজভস্তাল ইষ্পাত কারখানা থেকে সব নারী, শিশু ও প্রবীণকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘মারিওপোল শহরের এই অংশটির মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। ’ এর আগে গত শুক্রবার নতুন করে ৫০ জন বেসামরিক নাগরিককে বের করে আনা হয়েছিল। তবে এরপরও সেখানে হামলা অব্যাহত থাকে। আকাশ ও স্থলপথে ইষ্পাত কারখানাটিতে চলছে রুশ বাহিনীর আক্রমণ।
জাতিসংঘের নেতৃত্বে শহর ত্যাগের এ কার্যক্রম হওয়ার আগে শিশুসহ ২০০ জন বেসামরিক লোক আটকে ছিল। ওই ইষ্পাত কারখানায় ইউক্রেনের সেনারাও আটকে আছে। তাদের মধ্যে অনেক আহতও রয়েছে।
নতুন মার্কিন সামরিক সহায়তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের জন্য নতুন ১৫ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি কংগ্রেসকে তাগিদ দিয়েছেন তিন হাজার ৩০০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজে অনুমোদন দেওয়ার জন্য। এর মধ্যে সামরিক সহায়তা রয়েছে দুই হাজার কোটি ডলারের। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ভারী কামান, যুদ্ধবিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং কাঁধে বহনযোগ্য স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্র।
রাশিয়ার নৌযানে আঘাত হানার দাবি
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা রুশ নৌযানে আঘাত হানতে পেরেছে। বলা হয়েছে, ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এ আঘাত হানা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, ঘাটে থাকা ছোট একটি জাহাজ ধোঁয়া ও আগুনে আছন্ন। আক্রমণের তারিখ বা সময় জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ভিডিওটি দেখে জায়গাটি স্নেক আইল্যান্ড বলে শনাক্ত করেছে। ইউক্রেনের দাবি, তারা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার মোট ১১টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করতে পেরেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি ছিল রুশ রণতরী মস্কভা। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।