দ্রুত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যাওয়ার জন্য পশ্চিমা আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, মস্কোর হাতে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্ন রয়েছে এমন কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে তারা রাজি নয়। এদিকে পূর্ব ইউক্রেনে অব্যাহত ধ্বংসাত্মক অভিযানের মধ্যে চারদিক থেকে সেভেরোদনেস্ক শহরে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে রাশিয়ার সেনারা।
মিত্র দুটি পশ্চিমা দেশের জ্যেষ্ঠ নেতা ইউক্রেনকে আহ্বান জানিয়েছেন দ্রুত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যাওয়ার জন্য। তাঁরা হলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন।
তবে এর সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের দক্ষিণে ও পূর্বে রুশ অধিকৃত অঞ্চল রাশিয়ার বাহিনীর হাতে থেকে যাবে এমন শর্তের কোনো যুদ্ধবিরতির আহ্বানে তাঁরা রাজি নন।
পোদোলিয়াকের মতে, এ ধরনের ছাড় দিলে মস্কো আরো বড়, রক্তাক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি হামলা শুরু করবে। পূর্ব ইউক্রেনের সেভেরোদনেস্কের প্রতিরক্ষায় থাকা ইউক্রেনের বাহিনীকে রুশ বাহিনীর ঘিরে ফেলার চেষ্টার মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টার এ মন্তব্য এলো।
ইউক্রেন পার্লামেন্টে পোল্যান্ড প্রেসিডেন্ট
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা ইউক্রেনের পার্লামেন্টে বলেছেন, শুধু ইউক্রেনেরই নিজ ভবিষ্যতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে পরাজয় মেনে নেওয়ার জন্য ‘উন্মুখ কণ্ঠস্বর’ ইউক্রেনকে পরামর্শ দিচ্ছে।
তিনি আইন প্রণেতাদের ‘সেসব কণ্ঠস্বরের’ প্রতি মনোযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান। কারণ দুদার মতে, ইউক্রেনের এক ইঞ্চি সমর্পণ করাও সমগ্র পশ্চিমের জন্য আঘাত হবে। ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য পদ পাওয়ার চেষ্টায় পোল্যান্ডের সমর্থন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট দুদা।
রাশিয়া ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করার পর এবারই প্রথম বিদেশি কোনো নেতা সরাসরি দেশটির পার্লামেন্টে বক্তব্য দিলেন।
সূত্র : বিবিসি, এএফপি