সব
রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরি মস্কোভা খোয়ানোর পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও লিভভে নতুন করে হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভের দক্ষিণ-পূর্বের দারনিস্কি এলাকায় বড় বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। মস্কো বলছে, ট্যাংক মেরামতকারী একটি কারখানায় এই হামলা চালানো হয়েছে। কিয়েভের মেয়র বলছেন, উদ্ধারকারী ও চিকিৎসাকর্মীরা কাজ করছেন।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, বেলারুশ থেকে উড়ে এসে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছে লিভভ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার দাবি, মাইকোলাইভে সামরিক যান মেরামত কারখানায় তারা হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের দক্ষিণ সীমান্তের কাছেই এই কারখানা। এই হামলার আগে গতকাল শুক্রবার এক ঘোষণায় রাশিয়া বলে, নাশকতা ও সন্ত্রাসবাদের প্রতিশোধ নিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়ানো হবে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই কৃষ্ণ সাগরে রণতরি মস্কোভা ডুবে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করে ক্রেমলিন।
কিয়েভ ও এর মিত্র ওয়াশিংটন বলছে, জাহাজটিতে ইউক্রেন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জিত রণতরিতে এই হামলাকে ইউক্রেনের বড় ধরনের সফলতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। অভিযানের প্রথম সপ্তাহেই রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ হামলা চালালেও সেখানকার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি রাশিয়া। সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া রুশ বাহিনী এখন দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
আড়াই হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত : জেলেনস্কি
রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১০ হাজার সেনা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। গতকাল শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের কোনো হিসাব নেই।
রুশ সেনার মৃত্যুর সংখ্যা সম্পর্কে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধে ১৯ হাজার থেকে ২০ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে। তবে মস্কোর সাম্প্রতিক দাবি, ইউক্রেনে এক হাজার ৩৫১ রুশ সেনা নিহত এবং তিন হাজার ৮২৫ জন আহত হয়েছে।
শনিবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্ব দিকের পরিস্থিতি ‘এখনো অনেক জটিল’। নিজ দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের সেনাবাহিনীর সাফল্য সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে দখলদারদের আমাদের ভূখণ্ড থেকে সরানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়। ’
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে অব্যাহত রয়েছে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী কিয়েভ থেকে আরো ৯০০ দেহাবশেষ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে রুশ সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের মূল কেন্দ্রস্থল এখন দেশটির পূর্বাঞ্চল। রুশ বাহিনী এখন সেখানেই মনোযোগ দিচ্ছে। ইউক্রেনের সেনারা কিয়েভ থেকে সরে যাওয়ার পর এর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় রাস্তায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিয়েভের আঞ্চলিক পুলিশপ্রধান আন্দ্রিই নেভিতোভ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এখনো কিয়েভের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে।
আন্দ্রিই নেভিতোভ আরো বলেন, বুচা শহর থেকে সাড়ে তিন শর বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বোরোদিয়াংকা ও মাকারোভে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজ চলছে। এসব ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বরিস জনসনসহ ১০ জনের ওপর রুশ নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ দেশটির অন্য কয়েকজন নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাজ্যের বৈরী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করার কথা জানিয়েছে মস্কো।
বিবিসি জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস, প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেসসহ ১০ জ্যেষ্ঠ নেতার অনেকেই জনসনের মন্ত্রিসভার সদস্য, যারা এখন থেকে রাশিয়ায় ঢুকতে পারবেন না।
ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার জবাবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে মস্কো। রুশ নিষেধাজ্ঞাভুক্তদের মধ্যে আরো রয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিচারবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডমিনিক রাব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল, অর্থমন্ত্রী রিশি সুনাক, স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজন, রক্ষণশীল এমপি ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের মতো ব্যক্তিরা।
এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করতে লন্ডনের লাগামহীন তথ্য ও রাজনৈতিক প্রচার এমন এক অবস্থা তৈরি করছে, যা আমাদের দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দিয়েছে। তার জবাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, ব্রিটিশ নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের পরিস্থিতিকে আরো শোচনীয় করে তুলেছেন। প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে কিয়েভকে শক্তিশালী করেছেন এবং ন্যাটোর অংশ হিসেবেও তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সূত্র : এএফপি, বিবিসি
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি