সব
চীন বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন কাজে দেশটির জনগণের জেনেটিক ডাটা ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে কঠিন করে তুলবে।
গত মার্চে চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকার খসড়া প্রকাশ করে। ওই খসড়ায় জেনেটিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর সরকারের নির্দেশনা রয়েছে।
সেখানে জৈবিক নমুনা যেমন, অঙ্গ, টিস্যু ও রক্ত, যা থেকে ডিএনএ নেওয়া হয় এবং সিকোয়েন্সিং থেকে ডাটা সংগ্রহ করা হয়, এগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রাখা হয়েছে।
ওই নির্দেশিকায় বিদ্যমান প্রবিধানের ব্যাখ্যা এবং বাস্তবায়ন কীভাবে করা হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ ও ২০২১ সালের আইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যে আইন অনুযায়ী চীনা সংস্থাগুলোকে দেশটির জনগণের নির্দিষ্ট ধরনের জেনেটিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিদেশি গোষ্ঠীর সঙ্গে শেয়ার করা থেকে বিরত রাখতে বলা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্ববিদ জোনাথন ফ্লিন্ট ২০১৫ সালে চীনের গবেষকদের বড় ধরনের সহযোগিতায় নেচার১-এ চীনা জনগণের জেনেটিক ডাটা বিশ্লেষণ করে একটি ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন। গবেষক ফ্লিন্ট বলেন, নতুন করে দেওয়া নির্দেশিকাগুলো স্পষ্টতই নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, জেনেটিক সম্পদ সুরক্ষার জন্যই জেনেটিক ডেটা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়াই কম্পানিগুলোর জেনেটিক ডেটা রপ্তানিসহ অন্য কয়েকটি ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে।
স্পেনের বার্সেলোনার পম্পিউ ফ্যাব্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্ববিদ আরকাদি নাভারো বলেছেন, অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের ডিএনএ ডেটা শেয়ারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে। তবে বেশিরভাগ ধনী দেশ গবেষণার জন্য ডেটা শেয়ার করে থাকে। স্বল্প আয়ের দেশ এবং দুর্বল জাতিগত সংখ্যালঘুদের বৈজ্ঞানিকভাবে শোষণ করার ইতিহাস রয়েছে। এ কারণে কিছু দেশ তাদের মানুষের জেনেটিক ডেটা শেয়ারের ক্ষেত্রে চীনের মতো কঠোর নিয়ম চালু করেছে।
চীনের সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির জিনতত্ত্ববিদ শুহুয়া জু বলেছেন, তিনি নীতিগতভাবে মানব জেনেটিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করেন। তবে তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক নির্দেশিকাগুলোর কারণে বিজ্ঞানীরা জেনেটিকস নিয়ে কাজ করতে বাধার মুখে পড়বেন। সূত্র: নেচার
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি