সব
সুপার বাংলা ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র উচ্চ শিক্ষালয় এম সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক সদস্য ও সচেতন মহল। অধ্যক্ষ নজরুল অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা, কলেজের কৃষি ব্যাংক হিসাব নং-৪২১ থেকে একক সাইনে কলেজের অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে গত ০৮ জুন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
এম সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ্য না হলেও সিনিয়র কয়েকজন বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে যোগদান করেন নজরুল ইসলাম। এরপর থেকে শুরু হয় তার অনিয়ম ও দুর্নীতি। বিএনপি সরকারের সময় নিজেকে বিএনপি ঘরানার শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিলেও সরকার বদলের সাথে সাথে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘা ঘেঁষে চলা শুরু করেন তিনি।
প্রতিষ্ঠান শুরুর পর থেকেই গোপনে নিজস্ব মানুষ দিয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটি গঠন করে আসছেন তিনি। সভা না করেই কখনো কখনো মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এডহক কমিটি থাকা সত্তেও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দিয়ে গাড়ি ক্রয়ের জন্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তিনি। শুধু তাই নয় নিয়ম বহিভূর্তভাবে দীর্ঘদিন যাবত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একাউন্টে অধ্যক্ষ নজরুল তার একক স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন ও জমাদন করে আসছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে নিজ বাসভবনে ব্যবহার করে আসছেন তিনি। ব্যাক্তিগত ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল প্রতিষ্ঠান ফান্ড থেকে প্রদান করে আসছেন । অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিগত ১৮ বছর যাবত কয়েক লক্ষ টাকা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেন। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার কারনে পল্লী বিদ্যুৎ কোম্পানীগঞ্জ থেকে তাকে কারন দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও কলেজ ভবনে বসবাস করেও তিনি প্রতিমাসে বাসাভাড়া বাবদ ১৭ হাজার টাকা সুবিধা নিচ্ছেন। বিগত ৬ বছরের বাসাভাড়া বাবদ প্রায় ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতি বছর ভুয়া বিল- বাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ ১৬ টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ভর্তি ফি বাবদ বিনা রশিদে ভর্তি ফরম থেকে টাকা আদায়, শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন আইডি খোলা ও উপবৃত্তি টাকার জন্য বিনা রশিদে টাকা আদায়। কলেজের বিদ্যুৎ লাইন থেকে বাসভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহার। কলেজ পরিচালনা কমিটি গঠনে অভিভাবকদের অবহিত না করা। প্রতিবছর কলেজের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্রয় ও মেরামতের নামে ভুয়া বিল- ভাউচারের তৈরি করে টাকা উত্তোলন।
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি